লাইলাতুল কদরের স্বরুপ সন্ধান
মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’লা আমাদের প্রতি কতটা দয়াময় হলে আমাদের জন্য এমন রাতের ব্যবস্থা করেছেন যার এক রাত হাজার মাসের চেয়েও বেশি। আল্লাহ্ তা’লা বলেন,
لَیۡلَۃُ الۡقَدۡرِ خَیۡرٌ مِّنۡ اَلۡفِ شَہۡرٍ
‘লাইলাতুল কদর’ হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।(সুরা ক্বদর- আয়াত ৩)
হাজার মাস মানে ৮৩ বছরের চেয়েও বেশি, আর এই বেশি যে কততে গিয়ে থেমেছে তার হিসাব একমাত্র আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’লাই ভালো জানেন, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ, যেখানে মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের গড় আয়ু মোটামুটি ৬০-৭০ বছর সেখানে লাইলাতুল কদরের ১ রাতের ইবাদতে সে ৮৩ বছরের চেয়েও বেশি একটানা ইবাদতের সওয়াব পেয়ে যাচ্ছে,যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে তার সারা জীবনের আয়ুর চেয়েও বেশি আমল ১ রাতেই সে করতে পারছে আল্লাহু আকবার।
লাইলাতুল কদর সম্পর্কে হাদীস:-
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতেলাইলাতুল ক্দর অনুসন্ধান কর।”
[সহীহ বুখারী (২০১৭) ও সহীহ মুসলিম (১১৬৯), তবে শব্দচয়ন ইমাম বুখারী]
উবাদা ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম ‘লাইলাতুল কদর’ এর ব্যাপারে খবর দিতে বের হলেন।এ সময় দু’জন মুসলমানঝগড়া করছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি আপনাদেরকে ‘লাইলাতুল ক্দর’ এর ব্যাপারে অবহিত করতে বের হয়েছিলাম। কিন্তু অমুক অমুক ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হওয়ায়তা (সেই জ্ঞান) উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আশা করি উঠিয়ে নেয়াটা আপনাদের জন্য বেশি ভাল হয়েছে। আপনারা সপ্তম (২৭ তম), নবম (২৯ তম) এবং পঞ্চম (২৫ তম) তারিখে এর সন্ধান করুন।”[সহীহ বুখারী (৪৯)]
মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর এর মর্যাদা:-
(১) এ রাতে আল্লাহ তা‘আলা পুরা কুরআন কারীমকে লাউহে মাহফুয থেকে প্রথম আসমানে নাযিল করেন। তাছাড়া অন্য আরেকটি মত আছে যে, এ রাতেই কুরআন নাযিল শুরু হয়। পরবর্তী ২৩ বছরে বিভিন্ন সূরা বা সূরার অংশবিশেষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনা ও অবস্থার প্রেক্ষিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র উপর অবতীর্ণ হয়।
(২) এ এক রজনীর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
(৩) এ রাতে পৃথিবীতে অসংখ্য ফেরেশতা নেমে আসে এবং তারা তখন দুনিয়ার কল্যাণ, বরকত ও রহমাত বর্ষণ করতে থাকে।
(৪) এটা শান্তি বর্ষণের রাত। এ রাতে ইবাদত গুজার বান্দাদেরকে ফেরেশতারা জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তির বাণী শুনায়।
(৫) এ রাতের ফাযীলত বর্ণনা করে এ রাতেই একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়। যার নাম সূরা কদর।
(৬) এ রাতে নফল সালাত আদায় করলে মুমিনদের অতীতের সগীরা গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ قَامَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ إِيْمَانًا وَّاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
অর্থ : যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল সালাত আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করবে আল্লাহ তার ইতোপূর্বের সকল সগীরা (ছোট) গুনাহ ক্ষমা করেদেন। (বুখারী : ১৯০১; মুসলিম : ৭৬০)
অসুস্থ হোন বা যাই হোন, কোন ভাবে কদরের রাতকে অবহেলা করে বা এমনি এমনি নষ্ট করা বা শেষ হতে দেওয়া যাবে না। সাধ্যের ভিতর সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবেন শেষ দশ দিন এর অনুসন্ধান করার। আগে থেকে ভাল ভাল আমলের নিয়ত তৈরি করে রাখবেন, যাতে করে কোন বিশেষ কারণে সেগুলো যথাযথ ভাবে আদায় করতে ব্যর্থ হলেও আল্লাহ যেন নিয়তের কারণে পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করেন।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোন সৎ কাজের ইচ্ছা করলো, কিন্তু তা বাস্তবে পূরণ করতে পারলো না, আল্লাহ তাকে ঐ কাজের পূর্ণ সওয়াব লিখে দিবেন"
[বুখারী ৬৪৯১ (সহিহ)]।
অবশ্যই আল্লাহ আপনার অন্তর ও প্রচেষ্টার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন এবং সে অনুযায়ী আপনাকে আপনার কল্পনা থেকেও উত্তম প্রতিদান দান করবেন ইন শা আল্লাহ। নিজে করার পাশাপাশি অন্যদের ভাল ভাল কাজ করার ব্যাপারে অনুপ্রেরণা দিবো এবং তাদের আমাদের সাধ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করবো, তারা যদি আমাদের কথা শুনে বিভিন্ন আমল করে তবে আমরা তাদের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবো, ইন শা আল্লাহ [মুসলিম ৬৬৯৭ (সহিহ)]।
.
▣ লাইলাতুল কদরের রাত বুঝার আলামতঃ লাইলাতুল কদরের রাতটি বুঝার জন্য হাদিসের বর্ণনা হতে পাওয়া কিছু আলামত নিচে দেওয়া হলো:
.
০১. রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না।
০২. নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।
০৩. মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।
০৪. সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ অনুভব করবে।
০৫. কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়েও দিতে পারেন।
০৬. ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে।
০৭. সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত।
০৮. চাঁদ উদিত হবে থালার একটি টুকরার ন্যায়।
.
[সহিহ ইবনু খুযাইমাহ ২১৯০ (সহিহ){০২}। সহিহ বুখারী ২০১৫ (সহিহ){০৫}, ২০১৬ (সহিহ){০৬}। সহিহ মুসলিম ২৬৬২ (সহিহ){০৬}, ২৬৬৯ (সহিহ){০৮}]
.
এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রমও হতে পারে। তাই শেষ দশকের প্রতিটি রাতই আমাদের ইবাদতের সাথে কাটাতে হবে। আর যে ইবাদতের সাথে পাবে না, অপচয় করবে তার মতো কপাল পোড়া আর কে আছে!? এমন আফসোস যেন আমাদের জীবনে না আসুক।
.
▣ সাবধানতা ও সতর্কতাঃ সব রকম বিদ'আত ও ভুল কাজ থেকে কঠিন ভাবে বেঁচে থাকবো। নিচে কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলো,
❂ শুধু ২৭ রামাদ্বানের রাতকে বা অন্য কোন রাতকে কদরের রাত হিসেবে নির্দিষ্ট করা যাবে না। কারণ আমরা জানি না লাইলাতুল কদরের রাত ঠিক কবে।
❂ নামাজে প্রতি রাকা'আতে অমুখ সূরা ৩ বার, ১০ বার, ২১ বার ইত্যাদি ভাবে নির্দিষ্ট করে পড়া অর্থাৎ জরুরি মনে করা ও এমন সিস্টেম করে নেওয়া বিদ'আতের দিকে নিয়ে যাবে তাই সতর্ক হতে হবে। সব রকম বিদ'আত হতে বাঁচতে হবে।
❂ ক্বিয়ামুল লাঈল দুই রাকা'আত দুই রাকা'আত করে কোয়ালিটি ঠিক রেখে সুন্দর করে পড়বো। আপনি যে বড় সূরা ভাল পারেন তা পড়লে ভাল হয়। একটি সূরা একাধিক বার রিপিট করে পড়তে পারবেন। নামাজ বড় করা, সিজদা, রুকু বড় করার প্রচেষ্টা করবেন।
❂ মসজিদ, বাড়িকে ডেকোরেশন বা মোমবাতি জ্বালানো বা লাইটিং করা যাবে না।
❂ এই রাতকে উদ্দেশ্য করে স্পেশাল কবর যিয়ারত করা যাবে না। তবে কবরস্থান পাশে পড়ে গেলে করতে পারেন।
❂ বিদ'আতি মিলাদ পড়বেন না কারণ সাহাবারা, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈন বা সম্মানিত ৪ ইমামের মধ্যে কেউই তা করেননি ।
❂ সম্মিলিতভাবে উচু আওয়াজে তাড়াহুড়ো করে ভুল উচ্চারণে জিকির করা যাবে না এবং কোয়ালিটি দেখবেন, ভুলভাল কোয়ান্টিটি বাড়িয়ে জিকির করবেন না, যা জিকির করবেন শুদ্ধ করে পড়বেন (সুরা আরাফ ২০৫ আয়াত দেখুন)।
❂ ইবাদাতের কোয়ান্টিটির থেকে কোয়ালিটির দিকে নজর দিবেন।
❂ রাতে না ঘুমানোর চেষ্টা করে আল্লাহর স্মরণে থাকবেন, নাটক সিনেমা, মোবাইল ব্যবহারে, গল্প গুজবে ব্যস্ত হয়ে উঠবেন না। অনর্থক কাজ ও কথা বলে সময়ের অপচয় করবেন না।
❂ রিয়া হতে নিজের আমলনামাকে পরিচ্চন্ন রাখবেন।
.
.
কেউ যদি কদরের রাতে আমল করতে চান, এই নিয়মে করতে পারেন -
🔹 রাত দশটার পর থেকে টিভি বা মোবাইল দেখা থেকে বিরত থাকুন।
🔹 কোরআন পড়তে পারলে ১২ টার আগ পর্যন্ত কোরআন পরুন।
🔹 বেশি বেশি নফল আর হাজতের নামাজ পড়ুন।
🔹 রাত ১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত জিকির করুন। যেমনঃ-
(১) সুবহানাল্লহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লহু আকবার। (১০০ বার করে)
(২) লা ইলাহা ইল্লাল্লহ (২০০ বার)
(৩) আস্তাগফিরুল্লহ (কমপক্ষে ৫০০ বার, যত বেশি সম্ভব হয়)
(৪) বেশী বেশী দুরুদ পড়া।
(৫) সুবহানাল্লহি ওয়াবিহামদিহি (কমপক্ষে ১০০ বার)
(৬) "লা ইলাহা ইল্লাল্লহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আ'লা কুল্লি শাইয়্যিন কদির" (কমপক্ষে ১০০ বার)
(৭) দুয়া ইউনুস - "লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায্ যলিমীন" । (যত পারেন)
(৮) "সুবহানাল্লহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লহিল 'আযীম।" (কমপক্ষে ১০০ বার)
(৯) "লা হাওলা ওয়ালা কুওওতা ইল্লা বিল্লাহ" বেশি বেশি পড়তে পারেন।
(১০) সূরা ইখলাস যত বেশি পড়া যায়।
(১১) স্যায়েদুল ইস্তগফার পাঠ করা।
(১২) ১০০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহ্দাহু লা শারীকা লাহ্, লাহুল মুলকু অলাহুলহামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর পড়া যেতে পারে-
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লোক ১০০বার এ দু‘আটি পড়বেঃ
لاَ إِلهَ إِلاَّ الله وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
উচ্চারণ:- “ লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহ্দাহু লা শারীকা লাহ্, লাহুল মুলকু অলাহুলহামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
অর্থ:- আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই সমস্ত প্রশংসা এবং তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।
তাহলে ১০টি গোলাম আযাদ করার সমান সাওয়াব তার হবে। তার জন্য ১০০টি সাওয়াব লেখা হবে এবং আর ১০০টি গুনাহ মিটিয়ে ফেলা হবে। ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান হতে মাহফুজ থাকবে। কোন লোক তার চেয়ে উত্তম সাওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে ঐ দু‘আটির ‘আমল বেশি পরিমাণ করবে।(বুখারি- ৬৪০৩)
(১৩) তিনবার সুরা ইখলাস-১ বার কুরআন খতম ×৮৩ বছর!
(১৪) আল্লাহর ৯৯ নাম পড়ব-৮৩ বছর ধরে পরছি!
(১৫) সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত -ঐ রাতের জন্য যথেষ্ট আমল!
(১৬) সুরা বাকারার ১২৭ নং আয়াতটা পড়ে আল্লাহর কাছে সহায্য চাইতে পারি, ইবাদাতে কোন ভুল ত্রুটি থাকলে আল্লাহ ইনশাআল্লাহ মাফ করবেন
(ইব্রাহিম আঃ কাবা ঘরের প্রাচীর যখন পুনঃস্থাপন করেন তখন এই দুয়া পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন)
(১৭) ১০০ বার সুব্হানাল্লা-হি ওয়াবিহামদিহী পড়া যেতে পারে-
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার বলে,
«سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ».
(সুব্হানাল্লা-হি ওয়াবিহামদিহী)
‘আমি আল্লাহর প্রশংসা পবিত্রতা ঘোষণা করছি’, তার পাপসমূহ মুছে ফেলা হয়, যদিও তা সাগরের ফেনারাশির সমান হয়ে থাকে।”(বুখারী ৭/১৬৮, নং ৬৪০৫, মুসলিম ৪/২০৭১, নং ২৬৯১)
(১৮) লাইলাতুল কদরের দুয়াঃ
اللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
► উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা 'আফুউন, তু'হিব্বুল 'আফওয়া, ফা'ফু 'আন্নী
► অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাকারী, তুমি মাফ করতেই পছন্দ কর, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও
[তিরমিযী ৩৫১৩। মিশকাত ২০৯১। সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮৫০ (সহিহ হাদিস)
🔹 রাত ২ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পরুন ৮ রাকাত। রুকু ও সিজদায় বেশি সময় ব্যয় করুন।পারলে সিজদায় দোয়া করা।
🔹 তাহাজ্জুদের পর তিন রাকাআত বিতরের নামাজ পরুন। (যদি বাকি থাকে )
🔹 সেহরি খাওয়ার পূর্বেই হাত তুলুন মালিকের কাছে। আপনার প্রয়োজনের সব কিছু খুলে বলুন..একটু চোখের পানি ফেলে বলুন, "মালিক, আমি আপনার ইবাদত করি এবং আপনার কাছেই হাত পেতেছি...😭 খালি হাতে ফিরিয়ে দিবেন না.....ইত্যাদি
🔹 সেহরি খান।
🔹 ফজরের নামাজ পড়ুন।
🔹 মেয়েদের ক্ষেত্রে যাদের জন্য বাহিরে যেয়ে দান করা পসিবল না, তারা পারিবারিক সাদাকাহ বক্সে দান করতে পারবেন। বেশি টাকা না থাকলেও অন্তত দৈনিক ৫ টাকা করপ মোট ৫০ টাকা হলেও নিয়মিত ১০ রাতে দান করা।তাহলে ইন শা আল্লাহ শবে কদরে আলহামদুলিল্লাহ অন্তত ৫ টাকাও দান করা হবে।
উপরের কথাগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিন, যারা আপনার কথা শুনে এ আমল করবে, আপনিও তাদের আমলের সমান সাওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ্।
.
কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ভালো কাজের পথ প্রদর্শনকারী আমলকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, কিন্তু আমলকারীর সাওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না।..." [মুসলিম ২৬৭৪]
রিপোর্টার-জাহেদ আহমদ নিপু

Comments
Post a Comment